PSDP
PSDPআনুষ্ঠানিক আহ্বান ও সংগঠনের বিস্তৃত রূপরেখা

সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধ অভিযান (পিএসডিপি)

Platform On Social Disaster Prevention

বিষয়: ‘সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধ মঞ্চ’ গঠন ও যৌথ সচেতনতামূলক কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন।

প্রিয় দেশপ্রেমিক ও বিবেকবান সুধী,

বাংলাদেশ আজ এক সংকটময় সময় পার করছে। বিশাল জনসংখ্যার এই দেশে প্রতিদিনের সংবাদে সামাজিক বিপর্যয়ের যে চিত্র উঠে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ২০২৪ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভিত্তি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি সুশাসনের অভাব, অপরাজনীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বর্তমানে আমাদের সমাজে প্রধান সামাজিক দুর্যোগসমূহ:

  • সংস্কৃতি ও চেতনার সংকট:

    বাঙালি সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত।

  • সহিংসতা ও অপরাধ:

    নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ এবং মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমার বিস্তার।

  • নৈতিক অবক্ষয় ও মাদকের ছোবল:

    যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মাদকের ব্যাপক বিস্তার।

  • খাদ্যে ভেজাল ও দুর্নীতি:

    অসাধু চক্রের খাদ্য ভেজাল প্রতিযোগিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা।

  • শিক্ষাঙ্গনের অবক্ষয়:

    বাণিজ্যিকীকরণ ও দলীয়করণের কারণে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার অভাব।

সরকার একা এই সার্বিক সামাজিক দুর্যোগ ও সাংস্কৃতিক সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। এজন্য প্রয়োজন সচেতন নাগরিক ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধ।

এই লক্ষ্যেই আমরা গঠন করতে যাচ্ছি ‘সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধ মঞ্চ’। কেন্দ্রীয় স্তর থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে আমরা একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের এই যাত্রায় আপনার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক ও নৈতিক অংশীদার হিসেবে পাশে পাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আমাদের এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করবে।

ধন্যবাদান্তে,

এইচ এম হাসান আল মামুন (লিমন)

কো-অর্ডিনেটর

সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধ অভিযান (পিএসডিপি)

ওয়েবসাইট: https://psdp.walletmix.com

সংযুক্তি

সংগঠনের বিস্তৃত রূপরেখা (Expanded Framework)

মূল লক্ষ্য: নৈতিক অবক্ষয় ও উগ্রবাদের মতো মানবসৃষ্ট সামাজিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে একটি সুস্থ, সুন্দর, শান্তিময়, অহিংস, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠন করা।

উদ্দেশ্যসমূহ (Objectives)

১. উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ

  • মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষা ও চর্চা জোরদার করা।
  • উগ্রবাদ, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িক হিংস্রতার বিরুদ্ধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

২. সামাজিক পুনর্বাসন ও মূলস্রোতে ফেরানো

  • অপরাধ বা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিকল্প কর্মসংস্থান ও মানসিক সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা।
  • পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণ ও সচেতনতার মাধ্যমে অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ করা।

৩. ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার

  • অনলাইন অ্যাপস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক দুর্যোগ সৃষ্টিকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করা।
  • ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে সচেতনতামূলক প্রচার, সদস্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিরোধ সেলগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করা।

৪. সামাজিক রূপান্তর, নিরাপত্তা ও সুশাসন

  • মানবিক বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে সুশিক্ষা ও সুচিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন রোধ এবং গণপরিবহন ও সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি।
  • দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Activities & Implementation)

০১. ডিজিটাল অনলাইন অ্যাপস ও তথ্য ব্যবস্থাপনা

  • স্মার্ট মোবাইল অ্যাপ বিকাশ: প্রতিরোধ সেলের কার্যক্রম পরিচালনা, পরিচিতি ও ডিজিটাল প্রচারের জন্য সেন্ট্রাল অ্যাপ তৈরি।
  • ডিজিটাল ডেটাবেজ ও রিপোর্টিং: সামাজিক দুর্যোগ ও অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অ্যাপভিত্তিক সেন্ট্রাল ডেটাবেজ।
  • অনলাইন প্রশিক্ষণ: সেল সদস্যদের জন্য অ্যাপস ও অনলাইন মাধ্যমে নিয়মিত ওয়ার্কশপ, টিউটোরিয়াল ও ট্রেনিং সেশন।

০২. সাংগঠনিক কাঠামো ও ৯-স্তরের প্রতিরোধ সেল

  • জাতীয় কাউন্সিল: বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী ও পরামর্শক পর্ষদ।
  • ৯টি ধাপে প্রতিরোধ সেল: ১. কেন্দ্রীয় সেল, ২. বিভাগীয় সেল, ৩. জেলা সেল, ৪. উপজেলা সেল, ৫. ইউনিয়ন সেল, ৬. ওয়ার্ড সেল, ৭. স্কুল সেল, ৮. কলেজ সেল এবং ৯. বিশ্ববিদ্যালয় সেল।

০৩. পারিবারিক সচেতনতা, উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি

  • পারিবারিক সচেতনতা বৈঠক: উগ্রবাদ ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক।
  • কাউন্সেলিং ও বিকল্প জীবিকায়ন: পথভ্রষ্ট বা অপরাধে জড়িয়ে পড়া তরুণদের জন্য কাউন্সেলিং, কারিগরি শিক্ষা ও বিকল্প জীবিকায়নের সুযোগ তৈরি করে সমাজে পুনর্বাসন।
  • সাংস্কৃতিক ও পাঠচর্চা আয়োজন: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই পড়া উৎসব ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রসারে মতবিনিময় সভা আয়োজন।

০৪. গবেষণা, সুপারিশ ও সরকারি সংস্থায় প্রতিবেদন

  • সংবাদ আর্কাইভ ও সাময়িকী: সকল জাতীয় সংবাদের রেকর্ড সংরক্ষণ ও ত্রৈমাসিক/বার্ষিক সাময়িকী প্রকাশ।
  • নীতি-নির্ধারণী সুপারিশমালা: জেলাভিত্তিক সুপারিশমালা নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে সরকারকে নীতি-নির্ধারণে সহায়তা প্রদান।
  • মাসিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন: প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার ও উচ্চতর সরকারি দফতরে নিয়মিত কাজের রিপোর্ট পেশ।

০৫. বার্ষিক সামাজিক প্রীতি ও শান্তি সম্মেলন

  • জাতীয় সম্মেলন: প্রতি বছর দেশের সকল প্রতিরোধ সেল ও জাতীয় কাউন্সিলের সমন্বয়ে “বার্ষিক সামাজিক প্রীতি ও শান্তি সম্মেলন” আয়োজন।

জাতীয় কাউন্সিল (বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত) ও ৯টি ধাপে প্রস্তাবিত প্রতিরোধ সেল (9-Tier Prevention Cells):

১. কেন্দ্রীয় সেল • ২. বিভাগীয় সেল • ৩. জেলা সেল • ৪. উপজেলা সেল • ৫. ইউনিয়ন সেল • ৬. ওয়ার্ড সেল • ৭. স্কুল সেল • ৮. কলেজ সেল • ৯. বিশ্ববিদ্যালয় সেল

এই উদ্যোগে অংশীদার বা সহযোগী হতে আগ্রহী?

আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের আগ্রহের তথ্য আমাদের জানান। আমরা আপনার প্রদত্ত ফোন নম্বর বা ইমেইলের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করব।